শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬
 শিরোনাম
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন শিশুদের প্রতিভা বিকাশের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী রাতের আকাশ আলোকিত করতে মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না বসানোর পরিকল্পনা পোশাকশিল্পের উন্নয়নে বিএনপি সব সময় আন্তরিক: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হচ্ছে হার্ট সার্জারি শেখ হাসিনাকে ফেরানোর একমাত্র পথ প্রত্যর্পণ, ট্রাভেল পাস নয়: হুমায়ুন কবির আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিলেন সেনাপ্রধান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান রিজভীর মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ আন্দোলনের আহ্বান

১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করেছিলাম। উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করেছিলাম। উপস্থাপনের পর উক্ত অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছে সকল অধ্যাদেশ প্রেরণ করে।

তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনের আলোকে বিগত কয়েকদিন ধরে সংসদে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপিত হয়, যার ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

তিনি বলেন,  উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধনী আকারে এনে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজত করা হয়েছে।

বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেও উল্লেখ আছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে ৩ থেকে ৪টি অধ্যাদেশের ওপর অনেক প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে, যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, উক্ত অধ্যাদেশ ৩টি বিল আকারে যখন আনা হয়, তখন বিলের প্রস্তাবনায় এবং উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে নিম্নরূপে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেমন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ বলা হয়েছে, ‘যেহেতু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সহিত অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।’

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ বলা হয়েছে, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিধানাবলি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন  বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সহিত অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রযোজন বলে উল্লেখ করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, উক্ত প্রস্তাবনা এবং উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিই বলে দেয় সরকারের সদিচ্ছার কথা।

তিনি বলেন, যারা বলছেন, আমরা শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন চাই না, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় চাই না কিংবা বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা চাই না, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, বিএনপি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই আইনগুলোকে আরো বেশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং যুগোপযোগী করতে চায়। জনগণের যেকোনো যৌক্তিক দাবি বিএনপির কাছে সবচেয়ে বেশি বিবেচনার দাবি রাখে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।